তাফহীমুল কুরআন ১৮তম খণ্ড | সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী | আধুনিক প্রকাশনী
তাফহীমুল কুরআন ১৮তম খণ্ডে রয়েছে সূরা আল মূলক থেকে সূরা আল মুরসালাত পর্যন্ত গভীর তাফসীর। সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর অনন্য ব্যাখ্যায় কুরআনের মর্মার্থ অনুধাবন করুন। ইসলামী জ্ঞান অর্জনে আগ্রহীদের জন্য অপরিহার্য গ্রন্থ। এখনই সংগ্রহ করুন আধুনিক প্রকাশনী।
লেখক: সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী
প্রকাশনী: আধুনিক প্রকাশনী
বিশ্বের অন্যতম সেরা কুরআনের তাফসীর গ্রন্থ তাফহীমুল কুরআন-এর ১৮তম খণ্ড এখন আপনার হাতের নাগালে। বিশ্বখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও পণ্ডিত সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী (রহ.) রচিত এই তাফসীর গ্রন্থটি উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। কুরআনের আয়াতসমূহের সহজ, প্রাঞ্জল ও গবেষণাধর্মী ব্যাখ্যার জন্য এটি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ পাঠকের হৃদয় জয় করেছে।
এই ১৮তম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত সূরাসমূহ মানবজীবনের পরকালীন চেতনা, আল্লাহর একত্ববাদ, নবুওয়াতের সত্যতা এবং কিয়ামতের ভয়াবহতা নিয়ে গভীর আলোচনা করে। মওদুদী (রহ.)-এর প্রখর বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা পাঠককে কুরআনের অন্তর্নিহিত বার্তা সহজে বুঝতে সাহায্য করে।
১৮তম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত সূরাসমূহ ও বিষয়বস্তু
সূরা আল মূলক (সূরা নং ৬৭)
আয়াত সংখ্যা: ৩০
বিষয়বস্তু: সূরা আল মূলক আল্লাহ তাআলার সার্বভৌম ক্ষমতা ও একচ্ছত্র আধিপত্যের ঘোষণা দিয়ে শুরু হয়েছে। এই সূরায় বলা হয়েছে যে মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য কে আমলে শ্রেষ্ঠ। মহাকাশের সুনিপুণ সৃষ্টি ও স্তরে স্তরে সাজানো আসমানের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। জাহান্নামীদের অনুতাপ, ঈমানদারদের পুরস্কার এবং কাফেরদের পরিণতি সম্পর্কে সতর্কবার্তা এই সূরার মূল প্রতিপাদ্য। মওদুদী (রহ.) এই সূরার ব্যাখ্যায় আকিদা ও তাওহীদের গুরুত্ব অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরেছেন।
সূরা আল কালাম (সূরা নং ৬৮)
আয়াত সংখ্যা: ৫২
বিষয়বস্তু: এই সূরায় আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-এর মহান চরিত্র ও নবুওয়াতের সত্যতার ঘোষণা দিয়েছেন। কলম ও লেখার মাধ্যমে জ্ঞানের গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। কুরাইশ নেতাদের মিথ্যাচার, দাম্ভিকতা এবং অহংকারের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। বাগান মালিকদের শিক্ষামূলক গল্পের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে কৃতঘ্নতার পরিণাম ভয়াবহ। মওদুদী (রহ.) এখানে নবীজি (সা.)-এর নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ও ইসলামী চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সূরা আল হাক্কাহ (সূরা নং ৬৯)
আয়াত সংখ্যা: ৫২
বিষয়বস্তু: "হাক্কাহ" অর্থ অবশ্যম্ভাবী সত্য অর্থাৎ কিয়ামত। এই সূরায় পূর্ববর্তী জাতিসমূহ সামুদ, আদ, ফেরাউন যারা আল্লাহর নবীদের অস্বীকার করেছিল তাদের ধ্বংসের বর্ণনা রয়েছে। কিয়ামতের দিনের ভয়াবহ দৃশ্য, আমলনামা ডানহাতে বা বামহাতে পাওয়া এবং জান্নাত-জাহান্নামের বর্ণনা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। কুরআনের সত্যতা প্রমাণ এবং এটিকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের পরিণতি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
সূরা আল মাআরিজ (সূরা নং ৭০)
আয়াত সংখ্যা: ৪৪
বিষয়বস্তু: "মাআরিজ" অর্থ উন্নতির সিঁড়ি বা আরোহণের স্থান। এই সূরায় কাফেরদের আযাবের প্রশ্ন এবং আল্লাহর কাছে কিয়ামত দ্রুত আসার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। মানুষের স্বভাবজাত দুর্বলতা অস্থিরতা, কার্পণ্য, ভোগবাদিতা এবং প্রকৃত মুমিনদের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বর্ণনা এই সূরার বিশেষ দিক। নামাজ, যাকাত, আমানত রক্ষা এবং সাক্ষ্যদানে সততার মতো গুণাবলি মুমিনকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায় বলে এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূরা নূহ (সূরা নং ৭১)
আয়াত সংখ্যা: ২৮
বিষয়বস্তু: এই সূরায় হযরত নূহ (আ.)-এর দাওয়াতি জীবনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী বিবরণ রয়েছে। সাড়ে নয়শত বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম, বিভিন্ন পদ্ধতিতে দাওয়াত এবং জাতির ক্রমাগত প্রত্যাখ্যানের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। নূহ (আ.)-এর দুআ, কাফেরদের জন্য বদদুআ এবং মহাপ্লাবনের মাধ্যমে আযাবের ঘটনা এই সূরার কেন্দ্রীয় বিষয়। মওদুদী (রহ.) এখানে দাওয়াতের পদ্ধতি ও ধৈর্যের বিষয়ে মূল্যবান আলোচনা করেছেন।
সূরা আল জিন (সূরা নং ৭২)
আয়াত সংখ্যা: ২৮
বিষয়বস্তু: এই সূরায় জিন জাতির একটি দলের কুরআন শ্রবণ ও ঈমান গ্রহণের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। জিনদের নিজেদের মুখে বলা বক্তব্যের আলোকে ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহ তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত আলোচিত হয়েছে। গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। মওদুদী (রহ.) এই সূরার ব্যাখ্যায় জিন জাতি সম্পর্কে বিস্তারিত ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা করেছেন।
সূরা আল মুযযাম্মিল (সূরা নং ৭৩)
আয়াত সংখ্যা: ২০
বিষয়বস্তু: এই সূরায় নবীজি (সা.)-কে রাতের নামাজ ও তিলাওয়াতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ দাওয়াতের ভারী দায়িত্ব পালনের জন্য আত্মিক শক্তি অর্জন অপরিহার্য। কঠিন সংগ্রামের পথে ধৈর্যের নির্দেশ এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসার কথা বলা হয়েছে। সূরার শেষাংশে মুসলমানদের জন্য তাহাজ্জুদের বিধান সহজ করা হয়েছে এবং যাকাত আদায় ও আল্লাহর পথে ঋণ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
সূরা আল মুদ্দাস্সির (সূরা নং ৭৪)
আয়াত সংখ্যা: ৫৬
বিষয়বস্তু: এই সূরায় নবীজি (সা.)-কে প্রকাশ্য দাওয়াতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাপ ও অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকার এবং আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণার নির্দেশ রয়েছে। ওয়ালিদ ইবনে মুগিরার মতো কুরাইশ নেতাদের দাম্ভিকতা ও কুরআন প্রত্যাখ্যানের কঠোর সমালোচনা এবং তাদের জন্য সাকার (জাহান্নামের একটি স্তর)-এর বর্ণনা রয়েছে। সংখ্যা ১৯ এর বিষয়েও এই সূরায় উল্লেখ আছে।
সূরা আল কিয়ামাহ (সূরা নং ৭৫)
আয়াত সংখ্যা: ৪০
বিষয়বস্তু: কিয়ামতের দিনের বাস্তবতা এবং পুনরুত্থানের অকাট্য প্রমাণ এই সূরার মূল বিষয়। মানুষের নিজের বিবেক নিজেই তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে এই অসাধারণ ধারণা এখানে উপস্থাপিত হয়েছে। মৃত্যুর সময়কার কঠিন মুহূর্তের বর্ণনা এবং মানুষের অহংকারের বিপরীতে তার ক্ষুদ্র উৎপত্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কুরআন হিফয ও সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ নিজে নিয়েছেন এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও এই সূরায় আছে।
সূরা আল ইনসান / আদ-দাহর (সূরা নং ৭৬)
আয়াত সংখ্যা: ৩১
বিষয়বস্তু: মানুষের সৃষ্টির ইতিহাস ও তার দায়িত্বশীলতার কথা দিয়ে সূরাটি শুরু হয়েছে। মুমিনদের জান্নাতে প্রাপ্ত নেয়ামতের অপূর্ব বর্ণনা রয়েছে এই সূরায় সুন্দর পোশাক, সুস্বাদু পানীয়, পরিচর্যাকারী এবং অনাবিল সুখের দৃশ্য। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগ ও ইখলাসের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লিখিত হয়েছে। মওদুদী (রহ.) এই সূরার ব্যাখ্যায় জান্নাতের নেয়ামত ও তার প্রাপকদের বৈশিষ্ট্য সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
সূরা আল মুরসালাত (সূরা নং ৭৭)
আয়াত সংখ্যা: ৫০
বিষয়বস্তু: এই সূরায় আল্লাহর পাঠানো বায়ু/ফেরেশতাদের শপথ করে কিয়ামতের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ধ্বংসের ইতিহাস এবং মানুষের সৃষ্টির নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে। বারবার পুনরাবৃত্ত আয়াত "সেদিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য দুর্ভোগ" পাঠককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। কিয়ামতের দিনের বিভিন্ন দৃশ্য, জাহান্নামীদের শাস্তি এবং মুত্তাকিদের পুরস্কারের বর্ণনা এই সূরার বিশেষ দিক।
কেন এই বইটি আপনার সংগ্রহে রাখা উচিত?
- বাংলা ভাষায় কুরআনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও গভীর তাফসীর
- সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় কঠিন বিষয়ের সুলভ ব্যাখ্যা
- ঐতিহাসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ
- ইসলামী জ্ঞান চর্চায় অপরিহার্য রেফারেন্স গ্রন্থ
- পরিবারের সকলের জন্য উপযুক্ত ধর্মীয় শিক্ষার উপকরণ
- মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই সমান উপযোগী