তাফহীমুল কুরআন ১৪তম খণ্ড | আবুল আলা মওদুদী | আধুনিক প্রকাশনী
তাফহীমুল কুরআন ১৪তম খণ্ডে রয়েছে সূরা হামীম আস-সাজদাহ, সূরা আশ-শূরা, সূরা আয-যুখরুফ, সূরা আদ-দুখান, সূরা আল-জাসিয়াহ ও সূরা আল-আহকাফ-এর বিস্তারিত তাফসীর। সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী রচিত এই অনন্য ইসলামী গ্রন্থটি আধুনিক প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত। কুরআন বোঝার জন্য সেরা বাংলা তাফসীর গ্রন্থ এখনই সংগ্রহ করুন।
লেখক: সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী
প্রকাশনী: আধুনিক প্রকাশনী
তাফহীমুল কুরআন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কুরআনের তাফসীর গ্রন্থ, যা বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও পণ্ডিত সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী রচনা করেছেন। এই গ্রন্থটি শুধু আয়াতের অনুবাদ নয়, বরং প্রতিটি সূরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিষয়বস্তু, শিক্ষা ও আধুনিক জীবনে প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে গভীর আলোচনা করে।
১৪তম খণ্ডে রয়েছে কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ ৬টি সূরার পূর্ণাঙ্গ তাফসীর যেগুলো ঈমান, তাওহীদ, আখিরাত, ওহীর সত্যতা এবং ইসলামী জীবনবিধানের মূলভিত্তি তুলে ধরে।
১৪তম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত সূরাসমূহ ও বিষয়বস্তু
সূরা হামীম আস-সাজদাহ (সূরা ফুসসিলাত) ৪১তম সূরা
- আয়াত সংখ্যা: ৫৪
- বিষয়বস্তু: এই সূরায় কুরআনের মহাত্ম্য ও এর ঐশী উৎস প্রমাণ করা হয়েছে। কাফিরদের কুরআন প্রত্যাখ্যানের জবাব দেওয়া হয়েছে। সৃষ্টিজগত কীভাবে আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেয় তা তুলে ধরা হয়েছে। কিয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য দেবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এই সূরায় বিবৃত হয়েছে। সত্যকে প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণতি এবং মুমিনদের পুরস্কার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
সূরা আশ-শূরা ৪২তম সূরা
- আয়াত সংখ্যা: ৫৩
- বিষয়বস্তু: এই সূরায় ওহীর প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ তাঁর নবীদের সাথে কীভাবে কথা বলেন তার তিনটি পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলামের মূলনীতি হিসেবে পারস্পরিক পরামর্শ (শূরা)-র বিধান দেওয়া হয়েছে। সকল নবীর দ্বীন মূলত একই এই ঐক্যের বার্তা প্রদান করা হয়েছে। দুনিয়া ও আখিরাতের তুলনামূলক আলোচনা এবং আল্লাহর ক্ষমা ও ন্যায়বিচারের বর্ণনা রয়েছে।
সূরা আয-যুখরুফ ৪৩তম সূরা
- আয়াত সংখ্যা: ৮৯
- বিষয়বস্তু: এই সূরায় মুশরিকদের ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কুসংস্কার খণ্ডন করা হয়েছে। ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা মনে করার মিথ্যা আকিদার প্রতিবাদ করা হয়েছে। হযরত ইবরাহীম (আ.) ও হযরত মূসা (আ.)-এর দাওয়াতের ঘটনা বর্ণনা করে সত্যের পথে অবিচলতার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। হযরত ঈসা (আ.)-এর সত্যিকার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে এবং পার্থিব সম্পদ ও বিলাসিতা কখনো সত্যের মানদণ্ড নয় এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
🔹 সূরা আদ-দুখান ৪৪তম সূরা
- আয়াত সংখ্যা: ৫৯
- বিষয়বস্তু: এই সূরায় কুরআন নাজিলের মহিমান্বিত রজনী (লাইলাতুল কদর)-এর গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। মিসরে ফিরআউনের অত্যাচার এবং হযরত মূসা (আ.)-এর সংগ্রামের ঘটনা সংক্ষেপে আলোচিত হয়েছে। কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা, জাহান্নামের শাস্তি এবং জান্নাতের পুরস্কারের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। দুনিয়ার জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব এবং আখিরাতের চিরস্থায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূরা আল-জাসিয়াহ ৪৫তম সূরা
- আয়াত সংখ্যা: ৩৭
- বিষয়বস্তু: এই সূরায় সৃষ্টিজগতের নিদর্শনগুলো থেকে আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্বের প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। যারা আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে তাদের কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বনী ইসরাঈলকে দেওয়া আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও তাদের বিচ্যুতির ইতিহাস আলোচিত হয়েছে। কিয়ামতের দিন প্রতিটি জাতি হাঁটু গেড়ে বসবে এবং আমলনামা অনুযায়ী বিচার হবে এই দৃশ্যের বর্ণনা রয়েছে।
সূরা আল-আহকাফ ৪৬তম সূরা
- আয়াত সংখ্যা: ৩৫
- বিষয়বস্তু: এই সূরায় কুরআনের সত্যতা ও মুশরিকদের মিথ্যা উপাস্যদের অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে। পিতামাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য ও তাদের সাথে সদাচারের গুরুত্ব বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। জিনদের একটি দল কুরআন শুনে ঈমান আনার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যা ইসলামের সর্বজনীনতার প্রমাণ। আদ জাতির ধ্বংসের ঘটনা উল্লেখ করে সত্য প্রত্যাখ্যানের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
এই বইটি কেন পড়বেন?
✔ কুরআনের গভীর অর্থ ও তাৎপর্য সহজ বাংলায় বোঝার সুযোগ
✔ প্রতিটি সূরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নাজিলের কারণ জানা যাবে
✔ আধুনিক সমস্যার ইসলামী সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে
✔ ঈমান ও আকিদা মজবুত করার শ্রেষ্ঠ উপায়
✔ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় কুরআনের দিকনির্দেশনা
✔ বাংলাভাষী মুসলিমদের জন্য সর্বোত্তম তাফসীর গ্রন্থ
বইয়ের বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বইয়ের নাম | তাফহীমুল কুরআন — ১৪তম খণ্ড |
| লেখক | সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী |
| প্রকাশনী | আধুনিক প্রকাশনী |
| ভাষা | বাংলা |
| বিষয় | কুরআনের তাফসীর |